বাংলাদেশের জমির একক: কাঠা, বিঘা, ছটাক ও শতাংশ
বাংলাদেশের জমির এককগুলোর একটি সুবিধা আছে যা ভারতের নেই: দলিল, খতিয়ান ও শহুরে জমি-বেচাকেনায় এগুলো সারা দেশে একই মানে চলে — ১ কাঠা মানে 720 বর্গফুট। এই গাইডে প্রতিটি এককের মাপ বর্গফুট, বর্গমিটার, শতাংশ ও একরে দেওয়া হয়েছে, সবই নির্ভুল অনুপাত থেকে গণনা করা — এবং যেখানে সূত্রগুলো একমত নয়, সেখানে সেটাও বলা হয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ 2026-08-03.
যেকোনো আইনি, সম্পত্তি বা আর্থিক সিদ্ধান্তের আগে নিজের খতিয়ান/পরচা ও স্থানীয় ভূমি অফিসের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এই পাতার সংখ্যাগুলো প্রচলিত মানক — কোনো নির্দিষ্ট দাগের রেকর্ড করা পরিমাণ নয়।
এক নজরে পুরো শিকল
- ১ ছটাক = 45 বর্গফুট (৫ বর্গগজ)।
- 16 ছটাক = ১ কাঠা = 720 বর্গফুট = 80 বর্গগজ।
- 20 কাঠা = ১ বিঘা = 14,400 বর্গফুট = 1,600 বর্গগজ।
- ১ শতাংশ (ডেসিমেল) = একরের ১/১০০ = 435.6 বর্গফুট।
- ১ একর = ১০০ শতাংশ = 3.025 বিঘা = 60.5 কাঠা।
পুরো ব্যবস্থাটি আসলে হাতের হিসাব
বাংলার জমির এককগুলো ফুট বা গজে নয়, হাতে সাজানো — এক হাত = ১৮ ইঞ্চি = ১.৫ ফুট। বিঘা হলো 80 হাত × 80 হাত অর্থাৎ 6,400 বর্গহাত, যা ঠিক 120 ফুট × 120 ফুট = 14,400 বর্গফুট (1,600 বর্গগজ)। এই বর্গকে 20 ভাগ করলে এক কাঠা — 720 বর্গফুট (80 বর্গগজ, ৩২০ বর্গহাত) — আর কাঠাকে 16 ভাগ করলে এক ছটাক (45 বর্গফুট, ২০ বর্গহাত)। মেট্রিকে ১ কাঠা = 66.89 বর্গমিটার, ১ বিঘা = 1,337.8 বর্গমিটার। সরাসরি হিসাব: কাঠা → বর্গফুট।
শতাংশ (ডেসিমেল) — কাগজের একক, আর নামটির উৎস
মুখে মানুষ বলে কাঠা-বিঘা, কিন্তু খতিয়ান, পরচা ও দলিলে জমির পরিমাণ প্রায় সবসময় শতাংশ (শতক/সতক/ডেসিমেল) ও একরে লেখা থাকে। এক শতাংশ = এক একরের এক-শতাংশ = 435.6 বর্গফুট। তাই সবচেয়ে বেশি দরকার পড়ে এই রূপান্তরটির: ১ কাঠা = 1.6529 শতাংশ, ১ বিঘা = 33.06 শতাংশ।
নামটি এসেছে ব্রিটিশ জরিপ থেকে। জমি মাপা হতো গান্টার্স চেইন দিয়ে — ৬৬ ফুট লম্বা, ১০০ লিঙ্কে ভাগ করা — এবং ঠিক ১০ বর্গ চেইনে ১ একর। ফলে জরিপের হিসাব একরের দুই দশমিক ঘর পর্যন্ত বেরোত, আর সেই দ্বিতীয় দশমিক ঘরটিই আলাদা একক হয়ে গেল। মজার ব্যাপার, ওই ৬৬ ফুট = ঠিক ৪৪ হাত — এখানেই পুরোনো হাতের হিসাব আর ইংরেজ একরের হিসাব এক সুতোয় বাঁধা পড়ে। এর নিচের একক অযুতাংশ — একরের ১/১০,০০০, অর্থাৎ 4.356 বর্গফুট।
⚠️ দুই রকম বিঘা। প্রচলিত বিঘা 14,400 বর্গফুট = 33.0579 শতাংশ, কিন্তু আইনে "স্ট্যান্ডার্ড বিঘা" ধরা হয় ঠিক ০.৩৩ একর = 14,374.8 বর্গফুট। পার্থক্য বিঘাপ্রতি 25.2 বর্গফুট — ছোট জমিতে নগণ্য, বড় হিসাবে নয়।
বাংলাদেশের কাঠা বনাম ভারতের কাঠা
এই পার্থক্যটিই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে। ভারতে বিঘা রাজ্যভেদে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,৫৩০ বর্গমিটার পর্যন্ত বদলায়, এবং "পাকা" ও "কাঁচা" বিঘার আলাদা মাপ আছে — কারণ ভারতে ভূমি-রেকর্ড রাজ্যের বিষয়, কোনো একক কেন্দ্রীয় সংজ্ঞা নেই। কাঠার ক্ষেত্রে: পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ কাঠা 720 বর্গফুট (বাংলাদেশের সমান), কিন্তু বিহারে ১,৩৬১.২৫ এবং আসামে ২,৮৮০ — কারণ আসামে ১ বিঘা = ৫ কাঠা। রাজ্যভিত্তিক পূর্ণ তালিকা: রাজ্য অনুযায়ী ভারতীয় জমির একক।
তবে সৎ কথাটি হলো: বাংলাদেশও সব জায়গায় হুবহু এক নয়। সরকারি রেকর্ড, দলিল ও শহরে মান এক — কিন্তু গ্রামীণ মুখের হিসাবে কোথাও ৩০, কোথাও ৩৩, কোথাও ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা ধরা হয়, রংপুরে প্রায় ৬০ শতাংশে। নিজের এলাকার প্রচলিত মান আগে যাচাই করে নিন।
কানি, গণ্ডা, কড়া, ক্রান্তি, তিল
বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে আলাদা একটি পদ্ধতি চলে, যার ভিত্তি ৮ হাত লম্বা নল (= ১২ ফুট)। এক কানি = ১২০ বর্গ নল = ৭,৬৮০ বর্গহাত = 17,280 বর্গফুট = 24 কাঠা = 39.67 শতাংশ।
| একক | বর্গহাত | বর্গফুট | বর্গমিটার | শতাংশ |
|---|---|---|---|---|
| কানি (= ২০ গণ্ডা) | 7,680 | 17,280 | 1,605.36 | 39.6694 |
| গণ্ডা (= ৪ কড়া) | 384 | 864 | 80.27 | 1.9835 |
| কড়া (= ৩ ক্রান্তি) | 96 | 216 | 20.07 | 0.4959 |
| ক্রান্তি (= ২০ তিল) | 32 | 72 | 6.69 | 0.1653 |
| তিল | 1.6 | 3.6 | 0.33 | 0.0083 |
⚠️ কানির আকার মানকীকৃত নয় — এবং সূত্রগুলো একমত নয়। উপরের সারণি ৮-হাত নলের হিসাবে (17,280 বর্গফুট)। এর পাশাপাশি প্রচলিত: "কাচ্চা কানি" = ঠিক ৪০ শতাংশ (17,424 বর্গফুট, প্রায় ০.৮% বড়), এবং বড় কৃষিজমির "সাই কানি" ১২০–১৬০ শতাংশ (নোয়াখালীতে সাধারণত ১২০)। কড়ার ভাগ নিয়েও মতভেদ আছে: ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তালিকা, বর্গহাতের হিসাব ও পুরোনো খতিয়ানের অংশ-হিসাব — তিনটিই ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি দেয়, যদিও বহু জায়গায় ৪ ক্রান্তি লেখা থাকে; আমরা যে তিনটি মিলছে সেগুলোই অনুসরণ করেছি। তবু নিজের এলাকার খতিয়ানের মানই চূড়ান্ত।
🧾 একই শব্দ, দুই অর্থ। পুরোনো খতিয়ানে আনা / গণ্ডা / কড়া / ক্রান্তি / তিল প্রায়ই জমির পরিমাণ নয়, মালিকানার অংশ বোঝায়: ১৬ আনায় পুরো সম্পত্তি, ১ আনা = ২০ গণ্ডা, ১ গণ্ডা = ৪ কড়া, ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি, ১ ক্রান্তি = ২০ তিল। অনুপাত হুবহু এক, তাই গুলিয়ে যাওয়া সহজ — খতিয়ানের "৩ আনা"-কে ক্ষেত্রফল ধরে হিসাব করলে উত্তর ভুল হবে।
আইনে আসলে কী আছে
শতাংশই আইনি একক। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রতিটি দাগের কর ধরা হয় শতাংশে, এবং শতাংশের ভগ্নাংশ থাকলে তা পরবর্তী পূর্ণ শতাংশে গণ্য হয় — সর্বনিম্ন এক শতাংশ। অর্থাৎ কর-ব্যবস্থা যে ক্ষুদ্রতম পরিমাণ চেনে তা 435.6 বর্গফুট। একই আইন বিঘার একমাত্র আইনি মানও দেয়: কৃষিজমিতে কর অব্যাহতির সীমা ধরা হয়েছে “৮.২৫ একর বা ২৫ বিঘা”, যা থেকে দাঁড়ায় ১ বিঘা = ০.৩৩ একর = ঠিক ৩৩ শতাংশ।
এখানে একটি অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব আছে, যা জেনে রাখা ভালো। ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ — যেটি ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ রহিত করেছে (অথচ বহু ওয়েবসাইট আজও ওই অধ্যাদেশকেই বলবৎ বলে উল্লেখ করে) — সারা দেশে SI একককে মানদণ্ড ঘোষণা করে, এবং এর ৬৮ ধারা বলে: মানদণ্ড একক ছাড়া অন্য কোনো এককে পরিমাপ কোনো আইন, বিধি, আদেশ, চুক্তি বা অন্য কোনো দলিলে উল্লেখ করা যাইবে না। অথচ ২০২৩ সালের ভূমি আইন কর ধরে শতাংশে, সীমা বাঁধে বিঘায়, আর প্রতিটি খতিয়ান লেখা হয় একর-ভিত্তিক এককে। দুই আইনের এই ফারাক আজও মেলানো হয়নি।
পরিমাণটি থাকে কোথায়: খতিয়ান (পরচা বা রেকর্ড অব রাইটস) এক দাগের হিসাব দেখায় — দাগ হলো মৌজার ভেতরের একটি নম্বরযুক্ত প্লট, আর মৌজা-নকশায় দাগ নম্বর শুরু হয় উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে, শেষ হয় দক্ষিণ-পূর্বে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজের সতর্কবাণীটি মনে রাখুন: খতিয়ান স্বত্বের রেকর্ড, মালিকানার দলিল নয়। আর সিএস / এসএ / আরএস / বিএস — একাধিক জরিপে অমিল থাকলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী ওই মৌজার সর্বশেষ চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডকেই সঠিক ধরে নেওয়া হয়, যতক্ষণ না প্রমাণে ভুল প্রমাণিত হয়।
দ্রুত রূপান্তর তালিকা
| একক | বর্গফুট | বর্গগজ | বর্গমিটার | শতাংশ | একর |
|---|---|---|---|---|---|
| অযুতাংশ | 4.356 | 0.484 | 0.4 | 0.01 | 0.0001 |
| ছটাক | 45 | 5 | 4.18 | 0.1033 | 0.00103 |
| শতাংশ (ডেসিমেল) | 435.6 | 48.4 | 40.47 | 1 | 0.01 |
| কাঠা | 720 | 80 | 66.89 | 1.6529 | 0.01653 |
| বিঘা | 14,400 | 1,600 | 1,337.8 | 33.0579 | 0.33058 |
| একর | 43,560 | 4,840 | 4,046.86 | 100 | 1 |
এই এককগুলো রূপান্তর করুন
সব ক্ষেত্রফল ও জমির একক রূপান্তর দেখুন →
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- বাংলাদেশে ১ কাঠা কত বর্গফুট?
- ১ কাঠা = 720 বর্গফুট (66.89 বর্গমিটার)। এটি 80 বর্গগজ, 16 ছটাক এবং 1.6529 শতাংশের সমান। দলিল, খতিয়ান ও শহুরে জমি-বেচাকেনায় সারা দেশে এই মানই ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশে ১ বিঘায় কত কাঠা?
- 20 কাঠায় ১ বিঘা, অর্থাৎ ১ বিঘা = 14,400 বর্গফুট (1,337.8 বর্গমিটার) — দেশভাগের আগের বাংলার মানক। তবে কিছু গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় বিঘা এখনও চলে: কোথাও ৩০ বা ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা, রংপুরে প্রায় ৬০ শতাংশে।
- ১ বিঘা কত শতাংশ?
- ১ বিঘা = 33.06 শতাংশ। একে প্রায়ই "৩৩ শতাংশ" বলা হয়, যা একটি রাউন্ডিং — সঠিক মান 33.0579। আইনে আবার উল্টোটা: "স্ট্যান্ডার্ড বিঘা" ধরা হয় ০.৩৩ একর, অর্থাৎ 14,374.8 বর্গফুট — প্রচলিত বিঘার চেয়ে 25.2 বর্গফুট কম।
- শতাংশ কী, এটি কি ডেসিমেলের সমান?
- হ্যাঁ — শতাংশ, শতক, সতক ও "ডেসিমেল" সবই একই একক: এক একরের এক-শতাংশ, 435.6 বর্গফুট (40.47 বর্গমিটার)। বাংলাদেশের দলিল-খতিয়ানে সাধারণত এই এককেই পরিমাণ লেখা থাকে, তাই অন্য যেকোনো রূপান্তরের চেয়ে এটিই বেশি দরকারি।
- "শতাংশ" বা "ডেসিমেল" নামের একক এল কোথা থেকে?
- এটি ব্রিটিশ জরিপের রেখে যাওয়া জিনিস। জমি মাপা হতো গান্টার্স চেইন দিয়ে — ৬৬ ফুট লম্বা, ১০০ লিঙ্কে ভাগ করা — আর ঠিক ১০ বর্গ চেইনে ১ একর। ফলে জরিপের হিসাব একরের দুই দশমিক ঘর পর্যন্ত আসত, আর সেই দ্বিতীয় দশমিক ঘরটিই আলাদা একক হয়ে যায়: একরের ১/১০০ = 435.6 বর্গফুট। দক্ষিণ ভারতে একই একককে বলে "সেন্ট"।
- ১ ছটাক কত বর্গফুট?
- ১ ছটাক = 45 বর্গফুট (4.18 বর্গমিটার), এবং 16 ছটাকে ১ কাঠা। একটি প্রচলিত ভুল থেকে সাবধান: কিছু পাতায় লেখা থাকে ২০ ছটাকে ১ কাঠা, যা ওই একই পাতার ৪৫ বর্গফুট ছটাকের সঙ্গে মেলে না। সঠিক হলো 16 — 16 × 45 = 720।
- বাংলাদেশের কাঠা কি ভারতের কাঠার সমান?
- নির্ভরযোগ্যভাবে নয়। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ কাঠাও 720 বর্গফুট, তাই সেখানে মিলে যায় — কিন্তু বিহারে কাঠা ১,৩৬১.২৫ বর্গফুট এবং আসামে ২,৮৮০ বর্গফুট, কারণ আসামে ১ বিঘা = ৫ কাঠা, 20 নয়। কোন কাঠা সেটি না জেনে সীমান্তের ওপারের সংখ্যা ব্যবহার করবেন না।
- কানি কী এবং কত বড়?
- কানি বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের প্রচলিত একক। এর ভাগগুলো নির্দিষ্ট — ১ কানি = ২০ গণ্ডা, ১ গণ্ডা = ৪ কড়া, ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি, ১ ক্রান্তি = ২০ তিল — কিন্তু কানির নিজের আকার মানকীকৃত নয়। ৮ হাত নলের হিসাবে এটি 17,280 বর্গফুট (24 কাঠা, 39.67 শতাংশ); "কাচ্চা কানি" ধরা হয় ঠিক ৪০ শতাংশ (17,424 বর্গফুট); আর বড় কৃষিজমির "সাই কানি" ১২০ থেকে ১৬০ শতাংশ পর্যন্ত। নিজের এলাকার রেকর্ডের মানই ব্যবহার করুন।
- ১ একর ও ১ হেক্টরে কত বিঘা?
- ১ একর = 3.025 বিঘা = 60.5 কাঠা = ১০০ শতাংশ। পুরোনো জরিপের ভাষায় একে বলা হয় "১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক", যা একই কথা: ৮ ছটাক মানে 360 বর্গফুট, ঠিক বাকি থাকা আধা কাঠা। ১ হেক্টর = 7.47 বিঘা।
সূত্র ও পদ্ধতি
এই পাতার প্রতিটি সংখ্যা চারটি ভিত্তি-মান থেকে গণনা করা — ছটাক 45, কাঠা 720, বিঘা 14,400 ও একর 43,560 বর্গফুট — কোনোটি হাতে লেখা নয়, এবং প্রতিটি বিল্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হয়। ভিত্তি-মানগুলো একাধিক স্বাধীন সূত্রে মিলিয়ে নেওয়া: Rowlett, How Many? A Dictionary of Units of Measurement (বাংলার বিঘা ১,৬০০ বর্গগজ); sizes.com (কাঠা = বিঘার ১/২০ = ৮০ বর্গগজ); সংসদ বাংলা-ইংরেজি অভিধান (ছটাক = ৪.১৮ বর্গমিটার); Wikipedia — Bigha ও Katha (unit); এবং বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি-পরিমাপ সংকলনসমূহ। যেখানে সূত্রে বিরোধ আছে (কানির আকার, কড়া = ৩ না ৪ ক্রান্তি, গ্রামীণ বিঘা), সেখানে বিরোধটি লুকানো হয়নি — লেখা হয়েছে।
সরকারি তালিকা হুবহু তুলে না দিয়ে গণনা কেন? কারণ সরকারি তালিকাগুলো নিজেরাই একমত নয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দুটি পাতা, দুটিরই সর্বশেষ হালনাগাদ একই দিনে — একটিতে শতাংশ 435.6 বর্গফুট, অন্যটিতে ৪৩২; একটিতে কাঠা 720 বর্গফুট, অন্যটিতে ৭১৫। মন্ত্রণালয়ের মূল রূপান্তর-পাতায় এমন লাইনও আছে যা হিসাবেই টেকে না — “3 Bighas = 1 Acre approx. (1600 square yards)” (১,৬০০ বর্গগজ তো এক বিঘা, এক একর নয়), একরকে কোথাও 43,560, কোথাও ৪৩,২০০, কোথাও ৪৩,৫৬৯ বর্গফুট বলা, আর ছটাককে ৩২০ বর্গহাত বলা যেখানে ওই পাতার কাঠার হিসাবেই তা ২০ হওয়ার কথা। তাই আমরা একর ও সর্বসম্মত চারটি অনুপাত থেকে বাকিটা গণনা করি, এবং প্রতিটি বিল্ডে পুরো শিকলটি আবার যাচাই করি। মন্ত্রণালয়ের তালিকার যে অংশটুকু নিজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তা আমাদের সঙ্গে হুবহু মেলে — “১ একর = ৩ বিঘা ৮ ছটাক”, হেক্টর = 7.47 বিঘা, এবং ৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া।